রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২ আশ্বিন ১৪২৭

সহসাই হচ্ছে না বিএনপির কাউন্সিল
মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসছে
এম উমর ফারুক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৮:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসছে

মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ আসছে

করোনাভাইরাসের কারণে রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখে বিএনপি। চলতি মাস থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দলটি। ইতিমধ্যে চার শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়। এরই মধ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোড়ালোভাবে শুরু হয়েছে। দলের মহাসচিব পদের পরির্বতনসহ স্থায়ী কমিটিতে পদায়ন করা হচ্ছে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের। এ নিয়ে দলের ভিতরে বাইরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। 

গত ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল হওয়ার ১১ দিন পর ৩০ মার্চ ২০১৬ পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের পদে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে কাউন্সিল করতে পারছেনা দলটি। একের পর এক সংকটের কারনে তৃণমুল গোছানো শেষ করতে পারেনি। দলকে সাংগঠনিক ভাবে চাঙ্গা করকে কাউন্সিল প্রয়োজন। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত থাকায় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারছেন না। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। এ কারণে দলের জাতীয় কাউন্সিল সহসাই হচ্ছে না। তবে, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য নেতাদের পদায়ন করার চিন্তা ভাবনা করছে দলের হাইকমান্ড।

দলের মহাসচিব পদের পরির্বতন নিয়েও বিভিন্ন সমীকরন হচ্ছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল হওয়ার ১১ দিন পর ৩০ মার্চ ২০১৬ পূর্নাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালে ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সৌদি আরব সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে মির্জা ফখরুলকে দলের মহাসচিবের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যান। দলের গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলতে কোনো পদ না থাকলেও মির্জা ফখরুল প্রায় ৫ বছর সেই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েই ঝুলে ছিলেন। যদিও বিএনপিতে মহাসচিব হওয়ার মতো এবং মির্জা ফখরুলের চেয়ে সিনিয়র কয়েক ডজন নেতা তখন ছিলেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি অনেক সিনিয়র ও দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরীক্ষিত। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও সাবেক ছাত্রনেতা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ৭ জন নেতা মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন- প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (১৯৭৮-৮৬), দ্বিতীয় মহাসচিব কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান (১৯৮৬-১৯৮৭), তৃতীয় মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান (১৯৮৭-১৯৮৮), চতুর্থ মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার (১৯৮৮-১৯৯৬), পঞ্চম মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া (১৯৯৬-২০০৭), ষষ্ঠ মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন (২০০৭-২০১১), সপ্তম ও বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২০১১- ২৯ মার্চ ২০১৬ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এবং ৩০ মার্চ ২০১৬ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত)। দলটির অষ্টম মহাসচিবের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন এনিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

 এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমি দলের জন্য কাজ করছি। কাজের মুল্যায়ন হবে এটাই স্বাভাবিক। দল যে দায়িত্ব দেবে তা আমি সঠিকভাবে পালন করার চেস্টা করবো। তবে, আমাকে কোন পদে দায়িত্ব দেবে তা দলের সিদ্ধান্ত।

মহাসচিব পদের পরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নুতন মুখ নেওয়া হচ্ছে বলেও আলোচনা হচ্ছে। এজন্য সাংগঠনিকভাবে যোগ্য, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দলে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই আমলনামার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ কমিটি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা, কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজগুলো করে থাকে। স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকেই বেশিরভাগ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতা সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দলের যে স্থায়ী কমিটি করা হয় তাতে দুটি পদ খালি রাখা হয়। পরবর্তীতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় পাঁচটি পদ শূন্য হয়।

গত বছর জুনে স্থায়ী কমিটিতে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে আরও তিনটি পদ ফাঁকা থাকে। এদিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দলীয় কর্মকাণ্ডে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারও শারীরিকভাবে ততটা ফিট নন। অসুস্থতার কারণে এই তিনজনের মধ্যে দুজনের বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনটি পদ ফাঁকা এবং আরও দুজন বাদ পড়লে পাঁচটি পদ শূন্য হবে। এই শুণ্য পাচঁ পদের জন্য যোগ্য নেতাদের পদায়ন করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্য হওয়ার তালিকায় এরই মধ্যে আলোচনায় আছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন- ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, বীর উত্তম; অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »



সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন

প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : e-mail: [email protected], [email protected]
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ওয়াকিল উদ্দিন
সম্পাদক: রফিকুল ইসলাম রতন
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।