বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২ ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যাধি, নৈতিকতা অবক্ষয়
মোহাম্মদ ইলিয়াছ
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মে, ২০২২, ১২:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে অনেক ক্ষেত্রে সংসারে ভাঙন অনিবার্য হয়ে পড়ে । তেমনি পরকীয়ার কারণে ভেঙে যাচ্ছে অনেক সাজানো ঘর । সংসার ভাঙার পাশাপাশি এর কারণে অনেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও বেড়ে চলেছে । কেউ পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে হত্যা করছে স্ত্রীকে আবার কোনও ক্ষেত্রে স্ত্রী তার প্রেমিক বা ভাড়াটে লোক দিয়ে খুন করাচ্ছে তার স্বামীকে । এমন স্বামীও রয়েছে, যে পরকীয়ার কারণে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সামনে খুন করেছে তাদেরই আরেক সন্তানকে । ক“দিন আগে শেখ ফরিদ নামে এক পাপাচারি তার প্রেমিকার প্র্ররোচনায় ঘুমিয়ে থাকা সন্তানদের পাশেই স্ত্রীকে হত্যা করেছে এরপর আগুনে পুড়িয়েছে ।

এধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শেষে উভয়ই অনেক সময় পুলিশের কাছে অকপটে স্বীকার করে তাদের কৃতকর্ম । কখনও ঘটনার সুরাহা মেলে তবে অনেকটাই থাকে অমিমাংসিত এবং অজানা থেকে যায় পুরো জাতির কাছে । এই ধরনের ভাঙনের সংসারে সেই সন্তানদের ভবিষ্যৎ কেবল অনিশ্চিত অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভীতিকর । এদেশে পরকীয়ার বলি যে কত স্বামী-স্ত্রী তা হিসেব করে বলা সত্যি মুশকিল ।

শুধুমাত্র পরকীয়ার কারণে নাকি রাজধানীতে প্রতিবছর প্রায় শতাধিক নারীর মৃত্যু হয় । গৃহবধু ছাড়াও স্বামী এবং স্বজনরাও এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকে । পরকীয়ার বলি হয় গ্রামের অস্বচ্ছল পরিবার থেকে শুরু করে শহুরে সমাজের বিত্তবান অনেক পরিবার । কিছুদিন আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুরস্ক প্রবাসি স্বামী ইউনুস মিয়ার পাঠানো কোটি টাকা ও ২০ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে তার স্ত্রী পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে । সঙ্গে তার দশ বছরের পুত্রশিশুও রয়েছে । স্বামী অনেক খোঁজ করেও স্ত্রী-সন্তানের সন্ধান পাননি । তার স্ত্রী নাকি এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে । এ ঘটনা জানার পর ইউনুস মিয়া দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে আগেভাগে সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায় তার স্ত্রী ।

এমন অরুচিকর বহু ঘটনার জন্ম হচ্ছে আমাদের সমাজে যা থেকে পরিত্রাণের পথ আমাদেরকেই খুঁজে নিতে হবে । আবার খুঁজে নেয়ারই বা কী আছে । কারণগুলো তো সবারই একপ্রকার জানা, কেন এসব ঘটনাগুলো ঘটে । যতগুলো কারণ সামনে আসবে তার একটি হলো লোভ-মোহ । রেমিট্যান্স যেমন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্হার চাঙাভাব টিকিয়ে রেখেছে তেমনি সামাজিক বিপর্যয়ও সৃষ্টি করে চলেছে । প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি দেয়া আর অন্যের দেখাদেখি দেশে স্বচ্ছল থাকলেও লোভের বশে পরিবার-পরিজন রেখে বছরের পর বছর বিদেশ বিভুঁইয়ে কাটানোরও ফল এটা ।

এখনও সময় আছে পারিবারিক-সামাজিক সমঝোতায় এগিয়ে আসার । সামাজিক বিপর্যয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে সক্ষম হলেও সে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভাল হয় না , হয়নি কোনও রাষ্ট্র । আমাদের মানবিক মূল্যবোধ যেন আর ধুলোয় মিশে না যায় । দিনদিন আমাদের সমাজের অবক্ষয়ের চিত্রগুলো যেভাবে উঠে আসছে তা আমাদের যার যার স্বার্থেই পাল্টে দেয়ার সংগ্রামে এগিয়ে না এলে যে সামাজিক বৈরি বাতাসের ঝাপটা সমাজের গায়ে বিদ্ধ হবে তা থেকে মুক্তির কোনও পথ খোলা থাকবে না । আসুন, মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে এসে যার যার জায়গায় থেকে সকলকে সচেতন করে তুলি, সমাজের খোলনলচে পাল্টে দিই ।


আমার ভাবনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও উন্নয়নে ‘কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে  আমারা আমাদের ছোটবেলা থেকেই কিছু বিষয়ের প্রতি কড়া বিধি নিষেধ মেনে আসি পারিবারিক,সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুশাসনের কারনে। কিন্তু সৃষ্টি কর্তা আমাদের তৈরি করে দুনিয়ায় প্রেরনের সময় অন্যান্য গুনাবলির সাথে এই কামবোধ নামক জিনিষটিও দিয়ে দিয়েছেন সমানুপাতিক হারেই। এখন একটি মানুষ যখন তার প্রয়োজনিয় কোন বিষয়ের ঘাটতি অনুভব করে তখন সে তার সেই ঘাটতি পুরনে সচেষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অর্থনৈতিক,সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় গুলির ন্যায় এই একটি বিষয়ের ঘাটতি ( স্বামী-স্ত্রী থাকা সত্বেও আবার বিয়ের আগেই এই স্বাদ নেওয়ার প্রতি আসক্ত ছেলে-মেয়ের ক্ষেত্রে )পুরনে তাকে নিতে হয় প্রখর গোপনিয়তা। আর এই গোপনিয়তা ফাস হয়ে যাওয়া কিংবা ফাস হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা সামাজিক অনুশাসন এবং আইনি জটিলতার ফাদে পড়ার ভয়ে কিছু মানুষ নিয়ে বসে ভুল এবং আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। আর এই সব ভুল,সাময়ীক মোহে আক্রান্ত ব্যাক্তিরাই হয়ে ওঠছে সমাজের নিকৃষ্টতম মানুষের অংশ। প্রতিটা পারকিয়,স্বামী থাকাবস্থায় স্ত্রী কিংবা স্বামী অন্যের স্ত্রীর হাত ধরে ঘর পালানো,ঘটনার পরিপ্রেক্ষতে সন্তান সহ যে কোন হত্যার সাথে জড়িত হওয়া আসলেই একটা ব্যাধি এবং আইন কানুনে যথাযথ গ্যান না থাকার করনেই ঘটছে বলে আমি মনে করি। আমার সাথে আমার স্ত্রীর বনি বনা না হলে কিংবা আমার স্ত্রীর যদি আমার মাঝে কোন দুর্বলতার প্রকাশ প্রতিয়মান হয়ে ওঠে তা হলে আইনের কাছেই আছে যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত সমাধান। তাই এই সব বিষয় গুলি হতে সমাধানের জন্য আগে প্রয়োজন আমাদের সাধারন জনগনকে আইনের সুবিধা গুলি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। আর এর বাইরে কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার বা ঘটনা বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ঘটে থাকে এবং ঘটবেই তা একেবারেই নিচিহ্ন করা সম্ভব নয় এবং তা অতি নগন্য। এখানে আরো একটি বিষয় যোগ করতে হয় আর তা হল ধর্মীয় অনুশাসনের নামে কিছু উগ্র/কট্টরপন্থি মাওলানা এবং সমাজিক বিচার আচারের স্বল্প শিক্ষত মাতব্বরদের চাপিয়ে দেওয়া মারাত্মক ফতোয়াবাজিও এর জন্য অনেকটাই দায়ী।

আপনি সত্যি বলেছেন “প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি দেয়া আর অন্যের দেখাদেখি দেশে স্বচ্ছল থাকলেও লোভের বশে পরিবার-পরিজন রেখে বছরের পর বছর বিদেশ বিভুঁইয়ে কাটানোরও ফল এটা।”। আপনার কথাটা বাংলাদেশের বিশেষ কয়েকটা অঞ্চলের ক্ষেত্রে অসহনীয়ভাবে খুবই বেশি পরিলক্ষিত হয়। ওরা ৮/১০ বছর (আঠারো বছর একটানা সৌদিতে আছে আমন কলঙ্কিত বাঙ্গালীর কথাও শুনেছি) যাবত একটানা বিদেশে পড়ে থাকে আর সন্ধ্যার পর থেকে মোবাইল ফোনে একটানা ঘন্টার পর ঘণ্টা (ইন্টারনেট লাইন এ) কথা বলতে থাকে (যদিও আমার ৮ বছরের প্রবাস জীবনে আমি আজ পর্যন্ত ১০ মিনিটের বেশি কথা বলার মত কোনও কথা খুজে পাইনি)। ঘন্টার পর ঘণ্টা কী কথা বলে তা সহজেই অনুমেয়, একেতো সহজাত কামবোধ, তারপর বছরের পর বছর স্বামী ছাড়া এর পর স্বামী যদি ঘন্টার পর ঘণ্টা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে স্ত্রীকে উত্তেজিত করে রাখে তবে সে কি আর ধর্মীয় অনুশাসনকে কেয়ার করবে? (আমার কথাগুলি শুধুই প্রবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)। তাই সকল প্রবাসীদের প্রতি আমার অনুরুধ মনে রাখবেন পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য বিদেশে পড়ে পড়ে টাকা রোজগার করেন, কিন্তু ঘরের আসল মানুষটাকেই যদি ধরে না রাখতে পারেন তবে কী হবে টাকা রুজগার করে, কষ্ট করে????

ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাই এর অন্যতম কারন
জানি ভোগের রাজ্যে বিবেগ কাজ করেনা তবে যাদের জীবন কে সুখী করতে মাথার ঘাম পায়ে পেলে জীবিকা উপার্জন, আজ তারা এই যদি সেই মানুষ গুলুর সাথে বৈমানি করে তখন কী আর বলার থাকে! তবে লং সময় পরিবার তেখে দূরে থাকেলে দেখা যায় – হিতে বেপরীত হয় সুতরাং টাকা এই সব না টাকার পীসে না ছুটে পরিবারের দেখে নজর রাখলেই অননেক কিছুয়ে হাত ছাড়া হবে না ,
পরকীয়া ব্যধি বলতে দুর্বলতার স্বীকারোক্তিকে আড়াল করা ।সভ্যতার পূর্ব থেকে চলমান ঘটনাটিকে সাধুতার আবরণে ঢাকার ব্যর্থ বাণী বলাযায় । পিপাসিত পথিকের কাছে পানি হারাম না হালাল , ঠান্ডা কিনা গরম , কোন কিছুই বিবেচিত হয়না । চাহিদা পুরণ , ধৈর্য্য , অধৈর্য্য আর ভালমন্দটা এখানে গৌন ।জৈব চাহিদা মিটানোর নিয়ম নীতির বহির্ভুত কর্ম কান্ডকেই পরকীয়ায় বিবেচনা করাহয় । আমাদের দেশই যৌন গবেষনায় দেখা যাচ্ছে বিবাহিত নারী ও পুরুষ উভয়ই সহবাসের বাইরে মাষ্ট্যারবেটিঙ্গ করেন ,নারী ৪৫ শতাংশ পুরুষ ৫৫ শতাংশ । এমনো হতে পারে তারা পরকীয়তার সুযোগ সুবিধা না নিয়ে  তা করে থাকেন । জৈব চাহদার কণা উপ কণা গুলি জাগরিত হয় চোখের মিলন হতে । ঐ কণাশক্তি এতই প্রখরতায় একে অপরকে আকর্ষিত করে যে , সে শক্তি ধরাশায়ি করে জাতি,ধর্ম ,কর্ম,বয়স, অর্থ ,প্রতিপত্তি , এমনকি বুঁকের সন্তানকেও । তাই পরকীয়তা জীবনের চাহিদার অংশ । সে আপন পর বুঝেনা । পরকীয়তাকে স্বীকার করেনা । চলমান জীবনে নারী পুরুষের মিলনকে , নরকের আগুন হিসাবে উপস্হাপন করলেও তা ঠেকানো সম্ভব নয়।

। আমি একটা বিষয় পরিস্কার করে বলতে চাই, এই পরকীয়া ব্যাধিটা সম্পুর্ন দেখাদেখি একটা রোগ। ও করে তাই আমিও করি। লোভ থেকে দূরে থাকতে হবে , ছেলে মেয়ে উভয়কেই। এই পরকীয়া বিষয়টায় , ছেলেদের সুযোগ বেশি থাকে। ছেলেরা বেশি কৌতুহলী থাকে। ছেলেদের সব সময় মনে রাখা উচিত, আপনি বা আমি যদি আর একজনের বউ কে নিয়ে পরকীয়ার চিন্তা করি, হ্যা নিশ্চিত ধরে নিবেন, আপনার বউকে নিয়েও আর একজন পরকীয়ার চিন্তা করবে। দয়া করে বউ রেখে, এভাবে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর দূরে থাকবেন না। কারন সে ও রক্ত মাংসে গড়া একজন মানুষ। জীবন কে সুখী করতে মাথার ঘাম পায়ে পেলে জীবিকা উপার্জনে যেমন ব্যাস্ত থাকেন, তেমনি বউয়ের দিকেও যত্নশীল হউন। বউ এত কিছুই চায় না, বউ চায় তার স্বামী সঙ্গ, একটু শন্তি, চায় মূল্যায়ন। জীবনে টাকা পয়সার প্রয়োজন আছে, তার মানে এই নয় যে, বউ বাচ্চা সব ফেলে টাকার পিছনে ছুটতে হবে। বউ ভূল করলে বা ভূল বুঝলে তাকে শুধরিয়ে নিন। তার কাছে নিজেকে বিশ্বাসী করে তুলুন। নতুবা সুখ নামক হরিণটা অধরাই থেকে যাবে, জীবন হয়ে উঠবে দূবির্ষহময়।

সব সময় মনে রাখবেন , নিজের স্ত্রী বা মেয়ের কোন আচরন যেন, কারও কাছে যেন সহজ না হয়ে যায়। কারন চলার পথের এই ছোট ছোট ভুল গুলোই , বড় বড় ভুলে পরিনত করে। তখন আমাদের মনে হয় , তখন তো এটা আমার মনে হয়েছিল, তখন কেন খেয়াল করি নাই, তখন কেন শাসন করি নাই।

আমাদের নারী লীডারদের এগুলোর বেপারে সজাগ থাকা উচিত। ঘর ভাঙার সপ্ন না দেখে ঘর বাধার সপনে উত্সাহিত করলে এর একটা সমাধান করা সম্ভব। 

আমার ঘর নেই তাই আমি অন্যের ঘর হতে দেব না এটা নারী লীডারদের বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ। এটার জন্য সামাজিক আন্দোলন দরকার।

সর্বপ্রথমে জানাই ধন্যবাদ এমন একটি গুরুত্তপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখার জন্য। আসলে যৌবনের চাহিদা সবার আছে তবে অনেকে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আর অনেকে পারে না। কিন্তু তার চেয়ে বড় বিষয় হল মানুষের অতিরিক্ত চাহিদা এবং মূল্যবোধের অভাব। মানুষের যদি নীতিবোধ থাকে তবে সে এমন কাজ কখনো করতে পারে না। আর এর সবগুলোর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব। আমি শুধু ইসলাম ধর্মের কথা বলছি না। এটা সকল ধর্মের বিষয় দেখুন এক কাঠি কখনো বাজেনা । যেমন ধর্মে একাধিক বিয়ের অনুমতি আছে , সেখানে সমাজ সেটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেনা , দ্বিতীয় বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি, অর্থনৈতিক দৈন্যতা , স্নেহ মমতার সমবন্টনের ব্যর্থতা, দায়িত্বশীলতার অভাব , এবং স্ত্রীদের সহনশীলতার অভাবে কেউ কেঊ দ্বিতীয় বিয়েকে জটিলতা বোধ করছে অথচ বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মানুষের গড় আয় বিবেচনায় কোন কোন পরিবারে দু’জন নারী (স্ত্রী) থাকতে পারে (তম্মধ্যে একজন নারী কর্মজীবি হলে ভালো ) সেই অনুযায়ী একজন পুরুষ তার স্বাভাবিক জৈবিক চাহিদা বৈধভাবে পূরণ করতে সক্ষম হলে , আর অবৈধ রাস্তা খুঁজবেনা , এবং পরকীয়া বা অবিধিবদ্ধ মেলামেশা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে । আসুন গভীর ভাবে চিন্তা করি, সরকার নিবন্ধিত পতিতালয় যখন উচ্ছেদ করা হয়েছে তখন কি বিবেচনা করা হয়েছে ? যে এই পতিতালয় উচ্ছেদ তখন মৌমাছির চাকে ঢিল মারার শামিল হয়েছিল, তাই রাস্তায় রাস্তায় বাড়ীতে বাড়ীতে পতিতা অনুপ্রবেশের ব্যবস্থা আমরাই করেছি । সমাজের একশ্রেণী দাম্পত্য অসুখী মানুষের সহজাত জৈবিক চাহিদা এখন কখনও স্কুলের ছাত্রি , কখনও সহকর্মী কখনও প্রতিবেশীর উপর চড়াও হচ্ছে । তাই বলি, মনে রাখতে হবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে , সরকারী অসুখী দম্পতির চিকিৎসা করালে, মানসিক প্রশান্তি ও মনোরঞ্জনে খোলামেলাভাব সামাজিক ও ধর্মীয় সুবিধা গ্রহনে নিরুৎসাহিত করা না হলে , এবং নারী – পুরুষের শিক্ষার হার সমহারে উন্নতি হলে , মানুষের দায়িত্ব বাড়বে , পরকীয়ার মত অপরাধ কমবে ।

পরকীয়া এটা কি শুধু আমার আপনার বেলায়? একজন রিক্সাচালক যখন তার ছোটমেয়ের বান্ধবীর সাথে প্রেম করে তখন সেটা হয় পরকীয়া প্রেম। তাকে আমরা ধিক্কার দিই, তাকে আমরা বর্জন করি। আর যখন একজন মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব সেই কাজটি করে তখন তাকে আমরা ব্যাখ্যা দিই শ্বাশত, স্বর্গীয় প্রেম। তাদেরকে আবার আমরা একসাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিচয়ও করে দিই। কেন? কেন? কেন? তাদেরকে আমরা বর্জন করি না? আমি নিজেও অনেককে বর্জন করেছি। এব্যাপারে অনেকের সাথে আমার বিতর্কও হয়েছে।আমারতো মনে হই, আমরা তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছি।আসুন আমরা তাদেরকেও বর্জন করি। পরকীয়ার ব্যাপারে সামাজিকভাবে সোচ্ছার হই।

পরকীয়া কোন ধরনের ব্যাধি নয়। এটিকে ব্যাধি বলা মানে এই ব্যাপারটিকে একপেশে ভাবে বিচার করা এবং এর সম্পর্কে সত্যিকারের ধারণা না থাকা। পরকীয়ার কারণে কোন সাজানো ঘরই ভাঙ্গে না; ঘর অগোছালো হলেই পরকীয়ার জন্ম হয় এবং একসময় সেই অগোছালো ঘর ভেঙ্গেও যায়। প্রত্যেকটি পরকীয়ার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। একজন বিহাহিত নারী বা পুরুষ যদি মনোদৈহিকভাবে ভালো থাকে তাহলে তাকে পরকীয়ার দিকে দিকে যেতে হয় না। একটি নারী যদি দিনের পর দিন তার স্বামীর কাছ থেকে অবহেলা পেয়ে আসে, দিনের পর দিন যদি সেই নারীকে মানসিক যাতনা সহ্য করতে হয়, তাহলে তার কি করার থাকে? শারীরিক লাঞ্ছনার জন্য বিচার চাওয়া যেতে পারে (যদিও সেই বিচার আসলে পাওয়া যায় না বরং বিচার চাওয়ার কারণে লাঞ্ছনার পরিমান বেড়ে যায়); কিন্তু মানসিক যাতনার জন্য কার কাছে বিচার চাইবে? এরকম অবস্থায় কি করার থাকে একটা নারীর, বিবাহ বিচ্ছেদ? তারপর? বিচ্ছেদের পর কোথায় যাবে সেই নারী? স্বামী যদি হয়ে যায় ধর্ষক, অন্য পুরুষের সাথে যাওয়া ছাড়া কি আর কোন উপায় থাকে তার? আর তখন আপনি তাকে ‘অনৈতিক’ বা ‘অরুচিকর’ বলবেন? অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নিশ্চয়তা থাকলে বহু নারীই এই তথাকথিত ‘অনৈতিক’ বা ‘অরুচিকর’ পরকীয়া না করে বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে নিজের মতো করে বেঁচে থাকতে পারতো।

স্বভাবগত কারণ ছাড়াও সংগত অনেক কারণেই অনেক পুরুষ বাধ্য হয় পরকীয়ার পথে যেতে। একজন নারীতো তবু তার স্বামীর নির্যাতনের কথা কারো কাছে বলার চেষ্টা করেতে পারে, এই পুরুষ শাসিত সমাজে স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতিত হয়ে একজন পুরুষ তো কাউকে তা বলতেও পারে না!



লেখকঃ  ৩১তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার
সহকারী অধ্যাপক ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: +৮৮০২-৮৮৩২৬৮৪-৬, মোবাইল: ০১৪০৪-৪৯৯৭৭২। ই-মেইল : e-mail: swadeshnewsbd24@gmail.com, info@swadeshpratidin.com
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
প্রকাশক: স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড-এর পক্ষে মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী কর্তৃক আবরন প্রিন্টার্স,
মতিঝিল ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।